জীবন থেকে নেওয়া একটা ছোট গল্প

ছেলেটা রাজধানীর কোন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। সম্প্রতি তার অনার্স শেষ হয়েছে। তার গার্লফ্রেন্ড ঢাকার বাহিরের কোন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় বর্ষে পড়াশোনা করে। দুই তিন মাস পর পরই মেয়েটার সাথে দেখা করতে মেয়েটার ক্যাম্পাসে আসতো সে। মেয়েটার সাথে ঘোরাঘুরি আড্ডা দিয়ে চলে যেত। ছেলেটা তার জমানো টাকা দিয়ে মেয়েটার পছন্দমত গিফ্ট নিয়ে আসতো। এভাবেই চলছিল তাদের সম্পর্কটা।
খুব ভাল একটা সম্পর্ক যেভাবে চলে ঠিক সেভাবেই।
.
ছেলেটার অনার্স শেষ হওয়ার পর সে চাকরীর পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ইচ্ছে থাকলেও সে হয়ত তার গফকে আগের মত আর বেশি সময় দিতে পারেনা।কারন চাকরীটা যে পেতেই হবে তার। বিয়েটা যে তাকেই করতে হবে। সময় কম দেওয়াতে ছেলেটার প্রতি তার গফের আপত্তি উঠে। ছেলেটা তাকে সময় দেয়না। সে তাকে আগের মত ভালবাসে না। সি নিডস মোর টাইম,ইত্যাদি ইত্যাদি। সম্পর্কের মাঝে অভিযোগের পাল্লা যত ভারী হবে ভালবাসাটা ততই কমে যাবে। একসময় মেয়েটিরও তাই হল।ছেলেটার প্রতি তার ভালবাসা কমে গেছে। যতটা কমে গেলে কোন সম্পর্কই চলতে পারেনা ঠিক ততটাই। মেয়েটা তখন ছেলেটাকে ছেড়ে চলে যায়। ছেলেটা মেয়েটাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু তার চাই সময়। যে তাকে সময় দিবে তার সাথেই সে থাকবে।
.
সুন্দরী মেয়ে হওয়ায় নতুন করে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে তার আর কোন সময় লাগেনি। স্ট্যান্ড বাই মুডে রাখা যে কয়েকটি ছেলে আছে তাদের মধ্য থেকে মেয়েটি সবচেয়ে বেস্ট ছেলেটিকে বেছে নিল তার বফ হিসেবে। মেয়েটি এখন তারই ভার্সিটির তারই ব্যাচমেট কোন একটা ছেলের সাথে সম্পর্ক
করতেছে। মেয়েটার বর্তমান বফ তাকে অনেক সময় দেয়। বিকেলবেলা ক্যাম্পাসের আনাচেকানাচে ঘুরে বেড়ায়, সন্ধ্যা বেলায় একসাথে নাস্তা করে। কখনো বা ভাল ভাল রেস্টুরেন্টে দুজন খেতে যায়। বেশ ভালই যাচ্ছে মেয়েটার সময়গুলো।
.
অন্যদিকে গার্লফ্রেন্ড হারানো ছেলেটা মানসিকভাবে একটু বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এবং সে ভাবলো, ' যার জন্য এত কিছু করলাম সে কেমনে আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারলো? টিউশনির টাকা জমাইতাম।সেই টাকা দিয়ে প্রতিবার দেখা করার আগে তার জন্য গিফ্ট কিনে নিয়ে আসতাম। তবুও সে চলে গেল? সে এটা বুঝলো না যে, আমি তাকে বিয়ে করব বলেই একটা ভাল জব ম্যানেজ করার জন্য খুব করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি যাতে ভাল করে জবের পড়াশোনা করি, তার সাথে ফোনে কথা বেশিক্ষণ বললে সে যাতে বলে, এয় তুমি এখন থেকে কম করে আমার সাথে কথা বলবে,কারন তোমাকে পড়তে হবে প্রচুর -এমন কথা শোনার আশা করছিলাম তার মুখ থেকে।কিন্তু তাকে সময় দেইনা আমি, এই অযুহাতে সে চলে গেল তিন বছরের সম্পর্ক ভেঙ্গে দিয়ে?'
ছেলেটা উদাসীন হয়ে ভাবতে থাকে। কিন্তু কোন কুল কিনারা পায়না সে।
.
কোন একটা সম্পর্কের শুরুটা যেমন হয় সেরকমটা সারাজীবন হবে এমনটা আশা করা বোকামি। সম্পর্কের শুরুতে ছেলে-মেয়েরা তার পছন্দের মানুষকে নিজের করে পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় দেয়। কিন্তু সেই সময়টা কি সারাজীবন একই রকম ভাবে তাকে দেওয়া সম্ভব? ছেলেটার কিংবা মেয়েটার মনের মানুষ ছাড়াও তার ক্যারিয়ার আছে, পরিবার ও সমাজের প্রতি তাদের নিজস্ব দায়বদ্ধতা আছে। আর এগুলো সফলভাবে পালন করতে গেলে আপনাকে সময় একটু কম দিবে আপনার সঙ্গী এটাই স্বাভাবিক। সময়ের সাথে সাথে সবকিছু পরিবর্তন হয়।আজকে যে ছেলেটা আপনাকে প্রতিদিন দুই ঘন্টা সময় দিচ্ছে, আগামীতে ক্যারিয়ার গড়ার সময় হয়তো সে ছেলেটা আপনাকে সারাদিনে বিশ মিনিটও সময় দিতে পারবেনা। আর এর মানে এই নয় যে সে আপনাকে ভালবাসেনা। বরং সে আপনাকে পাওয়ার জন্যই হয়তো এত কষ্ট করে, নিজে ত্যাগ স্বীকার করে।এই সময়টা তাদের পাশে থাকুন, তাদের হতাশার দিনগুলোতে উৎসাহ প্রদান করুন। তবেই না আপনি একজন সাচ্চা প্রেমিক প্রেমিকা।আর যদি পাশে না থাকেন, তবে সহজেই বোঝা যায় যে আপনি জাস্ট টাইম পাস ও মজা নেওয়ার জন্য সম্পর্ক করছিলেন। ঘর বাঁধার জন্য নয়। অবশ্য আজকাল এমন সম্পর্কই বেশি...।অধিকাংশ সম্পর্কগুলোতে হয়ত মেয়েটা মজা নেয় কিংবা ছেলেটা অথবা ছেলে-মেয়ে উভয়ই।
.
মজা নেওয়ার উদ্দেশ্যে সম্পর্ক করা থেকে বিরত থাকুন। আপনি হয়ত মজা নিচ্ছেন, কিন্তু আপনার পার্টনার বিষয়টাকে সিরিয়াসলি নিয়েছে। মজা নেওয়া শেষে আপনি যখন ফুরুৎ করে উড়ে যাবেন তখন আপনার পার্টনার বিরহ যাতনায় ভূগবে। কষ্ট পাবে সে আপনার দ্বারা। আজ হয়ত আপনি কারো কাছে একটা ছ্যাঁকা না খেয়েও
অনেক মেয়েকেই ছ্যাঁকা দিয়েছেন। আপনার জন্য প্রতিনিয়ত চোখের জল ফেলছে তারা। কিন্তু এমনও একদিন আসবে যেদিন দেখবেন আপনি আপনার বউয়ের দ্বারা প্রতিনিয়ত ছ্যাঁকা খাচ্ছেন। আপনাকে বাসায় রেখে আপনার বউ অন্য কারো সাথে ডেটিংয়ে গেছে, আপনার কিছু করার ক্ষমতা নাও থাকতে পারে তখন। বস মনে রাখবেন, ' সময়টা আপনার সারাজীবন একরকম যাবেনা,কখনো ভাল, কখনোবা মন্দ। দাদারও একদিন, দিদিরও একদিন। ' আপনি যে পরিমান কষ্ট অন্যকে দিয়েছেন ঠিক সে পরিমান কষ্ট পাওয়ার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকুন।ভবিষ্যৎ আসছে.... আপনার জন্য কষ্টের ডালি নিয়ে...।
.
তাই নিজে কষ্টে বাঁচুন, অন্যকে সুখে রাখুন,
অন্যের সুখে নিজের সুখ খু্ঁজুন,আলটিমেটলি
ভাল থাকুন

artlifeblogstory
9
17.364 GOLOS
0
В избранное
joy69
😘😗😙😚 Poooooor man poooooor think 😘😗😙😚
9
0

Зарегистрируйтесь, чтобы проголосовать за пост или написать комментарий

Авторы получают вознаграждение, когда пользователи голосуют за их посты. Голосующие читатели также получают вознаграждение за свои голоса.

Зарегистрироваться
Комментарии (0)
Сортировать по:
Сначала старые